বৈশ্বিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এ অঞ্চলে উৎপাদন ঘাটতি ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, ফলে সাময়িকভাবে বিশ্ববাজারে অ্যালুমিনিয়ামের সরবরাহ ব্যাহত করবে। খবর দ্য বিজনেসলাইন।
আমেরিকান এ বিনিয়োগ ব্যাংক জানিয়েছে, একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হলেও অঞ্চলের কারখানাগুলো এখনই পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে না। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদন ইউনিট বা পটলাইনগুলো মেরামত করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া কার্যক্রমগুলো কেবল ধীরে ধীরে সচল করা সম্ভব।
এ কারিগরি জটিলতার কারণে গোল্ডম্যান স্যাকস পশ্চিম এশিয়ার অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। ব্যাংকটি এ অঞ্চলের উৎপাদন পূর্বাভাস ২০২৬ সালের জন্য ৬ লাখ ৬০ হাজার টন এবং ২০২৭ সালের জন্য ১০ লাখ টন কমিয়েছে। নতুন প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাহরাইনের কারখানাগুলোর উৎপাদন ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের আগে সংঘাত-পূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উৎপাদন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সময় লেগে যেতে পারে।
সরবরাহের এ ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হবে না বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, আগামী কয়েক বছর বাজারে দুটি ভিন্নমুখী প্রভাব দেখা যাবে। একদিকে পশ্চিম এশিয়ার উৎপাদন সংকট স্বল্পমেয়াদে দাম বাড়িয়ে রাখবে, অন্যদিকে এশিয়ার অন্য দেশ থেকে আসা বিপুল সরবরাহ বাজারকে আবার উদ্বৃত্তের দিকে নিয়ে যাবে।
মূলত ইন্দোনেশিয়া ও চীন এ নতুন উৎপাদন প্রবাহে নেতৃত্ব দিচ্ছে। দ্রুত কারখানা সম্প্রসারণের কারণে গোল্ডম্যান স্যাকস ইন্দোনেশিয়ার অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন পূর্বাভাস ২০২৬ সালের জন্য ১৭ লাখ টন এবং ২০২৭ সালের জন্য ২৯ লাখ টনে উন্নীত করেছে। চলতি বছরই ইন্দোনেশিয়ার অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮৯ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি ভালো মুনাফা থাকায় চীনের কারখানাগুলোও তাদের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি উৎপাদন করছে। ২০২৭ সালের মধ্যে চীনের উৎপাদন ৪ কোটি ৬৩ লাখ টনে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ব্যাংকটি জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে ২০২৬ সালে ৭ লাখ ২০ হাজার টন অ্যালুমিনিয়ামের ঘাটতি দেখা দেবে। তবে ২০২৭ সালে তা কাটিয়ে উঠে ৫ লাখ ৯০ হাজার টন উদ্বৃত্ত থাকবে। ফলে ব্যাংকটি ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জন্য প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের গড় দাম ৩ হাজার ৩০০ ডলার এবং ২০২৭ সালের জন্য ২ হাজার ৯৫০ ডলার নির্ধারণ করেছে। মধ্যমেয়াদে এশিয়ার এ বাড়তি সরবরাহের কারণে অ্যালুমিনিয়ামের দাম আগামী বছরের শেষের দিকে আবার কমে আসতে পারে।